Wednesday, October 8, 2014

ধর্মহীনে খোঁজে ছুতা- ধর্মের ষাড় মারে গুতা

সকল ধর্মহীনে খোঁজে ছুতা
ধর্মের ষাড় মারে গুতা
কোথায় বলো যাই
দেখি জগৎ জুড়ে মতের বিরোধ
মানবতায় নাই।।

জল নিয়ে করে হরি-হল্লা
পানিতে নেমে কয় মাশাল্লাহ
হিন্দু-মুসলমান
ডুবলে পরে মানবদেহ
সমানে সমান
ওরে ভেসে ভেসে যাবে ক্ষয়ে
খুঁজলে কী আর পাই।।

ব্রাহ্মণে চায় পূঁজার ধোঁয়া
মোল্লারা এসে দেয় ফতোয়া
গরিব-চণ্ডালে
মরলে কী জাত লেখা থাকে
কারও কপালে
ওরে পচে গলে যায় রে দেহ
রূপের রোশনাই।।

কে বড়ো আর কেবা ছোটো
জন্মিলে সব ধূলায় হাঁটো
মাটির এ ধরায়
জলিল বলে সকল ভালো
মানব তপস্যায়
ওরে উঁচু বলো নিচু বলো
মরণ হবে ঠাঁই।।

শেখ জলিল ১০.১০.২০১৪



Monday, September 29, 2014

আমার ঘরের মাঝে বসত যাহার

আমার ঘরের মাঝে বসত যাহার
খুঁজি বনে-বাদারে
সুখের খুশি দেয় না ধরা
দুঃখ প্রাণের আঁধারে।।

হাতের কাছে ভরা কলস
তৃষ্ণাতে যাই মরি
আপন-স্বজন দূরে ঠেলে
চণ্ডালে পায় ধরি
ও হায় মনের কষ্ট হয় না লেপন
কর্মে সাধন বাধা রে।।

আপন বাসে কোকিলের স্বর
বৈরাগ্যে সুর বাঁধি
অধর প্রাতে বিফল মিলন
দুই নয়নে কাঁদি
এখন জলিল দেখে মায়ার ডোরে
কাটলো আয়ু আধা রে।।

শেখ জলিল               ২৯.০৯.২০১৪        

Sunday, September 14, 2014

সোনার ফালি চাঁদ যে আমার

সোনার ফালি চাঁদ যে আমার
ভাইসা গেলো নদীতে
না পারিলাম ধরতে তারে
না পারিলাম রাখিতে
পাড়ে বসে তাইতো আমার
জনম গেলো কাঁদিতে।।

আষাঢ় মাইসা ভাসা পানি
আইতো যখন মাঠেতে
নাও দৌড়াইয়া যাইতাম কতো
কাজলডাঙার ঘাটেতে
না চাহিতে পার করিতাম
পারের কড়ি বাকিতে।।

চৈত্র মাসের রঙের মেলা
বইতো যখন গাঁয়েতে
বাপের সনে আইতো সে যে
ভীরু ভীরু পায়েতে
না পারিতাম কইতে কথা
না চাহিতাম আঁখিতে।।

গেলো বারের বর্ষাতে সে
নাইওর গেলো দূরেতে
বুকের ভেতর হৃদবাঁশিটা
বাজলো করুণ সুরেতে
চাঁদের ফালি ডুবলো আমার
ঘূর্ণি স্রোতের ফাঁকিতে।।

শেখ জলিল  ০৪.০৬.২০১৪

Thursday, August 21, 2014

আমার অনেক সাধের পোষ পাখি

আমার অনেক সাধের পোষ পাখি
বনেই ছিলো যার আঁখি
বাদা তিতির উড়ে গেছে
পড়ে আছে খাঁচাটি।।

আমার ভালোই ছিলো তাঁত বুনে
কাল হলো যে ষাঁড় কিনে
খাজন চেয়ে বাজন বেশি
পড়লো খোঁয়াড় মন-হাতি।।

হায়রে কারো কপাল সুখ মাপা
কারো কপাল দুখ চাপা
কোন্ কালে খেয়েছি ঘি
হাত শুঁকে আর দেখবো কী।।

আমার ঘরের ইঁদুর খায় বেড়া
কেমনে বাঁধি নিজ ডেরা
জলিল বলে সব করে নাশ
গুটিপোকার প্রাণ গুটি।। 

শেখ জলিল  ১৭.০৬.২০১৪

Tuesday, July 15, 2014

আইলো দারুণ বর্ষাকাল

আইলো দারুণ বর্ষাকাল
হরিণ চাটে বাঘের গাল
নাইয়ের কুকুর কাঁধে চড়ে
মারে লম্বা ফাল।।

রইলে হাতি কাদায় পড়ে
চামচিকাটাও লাত্থি মারে
উড়োন চিলে বসলে বিলে
মীন যে বেসামাল।।

আমড়া গাছে ল্যাংড়া আম
ভূতের মুখে শিবের নাম
লংকাকাণ্ড হুলুস্থুলে
শঠের জোড়কপাল।।

গুড়ের গন্ধে পিঁপড়ে আসে
অগুণে গুণ ভালোবাসে
জলিল বলে খলের পিরীত
জগৎ টালমাতাল।।

শেখ জলিল ২৮.০৫.২০১৪

Friday, July 4, 2014

আমি ময়না টিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে

আমি ময়না টিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে
খাঁচায় পুষি কাক
এক দুর্জনেরে ভালোবেসে
জীবনটা বরবাদ।।

আমার গলায় বেঁধা মাছের কাঁটা
ধরি বিড়ালেরই পায়
মাথায় করে এনে সে যে
দুপায়ে মাড়ায়
তাহার মরা গাঙে কুমির ভরা
প্রেমের মৃত্যুফাঁদ।।

আমার মঙ্গলচণ্ডী পায়না পূজা
সুবচনী হাত বাড়ায়
নাক কাটাবার গোঁসাই সে যে
নাইকো পেট পূজায়
আমার কাঁথাও ভেজে কম্বল ভেজে
ভাঙা ঘরের ছাদ ।।

ও হায় উল্টো চোরা মশানে গায়
উৎপাত ধন চিৎপাতে যায়
জলিল বলে উঁচু হলে
ভাঙ্গে বৈশাখী বায়
তাহার উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে
দুঃখ-অবসাদ।।

শেখ জলিল        ২৭.০৫.২০১৪

Tuesday, June 24, 2014

এখানে হঠাৎ করে বৃষ্টি এলে

এখানে হঠাৎ করে বৃষ্টি এলে অঝোর ধারার
সহসাই বাঁধ ভেঙে যায় হৃদয় আমার
তুমি কি বৃষ্টি দেখো বৃষ্টি ধরো হাতের মুঠায়
ঝড়বাতাসে ঝাঁপটা এলে চিলেকোঠায়?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি সটান ভিজি
দূর জানালার মুখটি চেনা আজও খুঁজি
তুমি সেই কেমন আছো
বলো, তুমি কেমন আছো?।

এখানে ফাগুন এলে ফুলবাগানে গুনগুনিয়ে
সারাদিন ভোমরারা যায় গান শুনিয়ে
তুমি কি তেমনি সাধো তেমনি বাঁধো নতুন সুরে
তানপুরাটায় হাত বুলিয়ে কণ্ঠ জুড়ে?
দখিনায় কান পেতে রই এখন আমি
নিশি পাওয়া গানটি শুনি দিবসযামী
তুমি আজ কেমনে বাঁচো
বলো, তুমি কেমনে বাঁচো?।

এখানে শরৎ এলে শিউলি ফুলে ভোরবেলাতে
ঝরাফুলে মালা গাঁথি এই হাতেতে
তুমি কি তেমনি আসো গাছের তলায় চুপিসারে
ঠাকুরবাড়ির পেছনটাতে পুকুর ধারে?
এখনও বাতাসে ফুল ঝরা শুনি
তোমায় দেখার অপেক্ষাতে স্বপ্ন বুনি
তুমি কি আমায় যাচো
বলো, তুমি আমায় যাচো?।

শেখ জলিল                   ০৩.০৬.২০১৪