Wednesday, August 29, 2012

বেকায়দা প্রেমকাব্য

১.
ক্লাস ফাঁকিতে যেদিন গেলাম
বাগমারার ঐ বাসায়
নিউ বিল্ডিং-এর গলি ধরে
বুকভরা সব আশায়
আব্বু-আম্মু দু’জন সেদিন
ছিলো বাসার বাইরে
একলা পেয়ে তোমার ঘরে
মন করে তাই-নাইরে
যেই জড়িয়ে তন্বীদেহ
ছুঁয়েছি ঠোঁট-গাল
বোনটি তোমার হঠাৎ এসে
করলো জঞ্জাল!

২.
ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে
নলখাগড়ার চরে
তোমার সাথে হেঁটে যেতে
মন যে কেমন করে
বালুর চরা নদীর পানি
পেরিয়ে গেলাম বনে
সবার চোখের আড়াল হয়ে
গোপনে গোপনে
আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে
কাটলো যখন লজ্জা
ভাবছি বসে মধুর হবে
নদীর ধারের সজ্জা
মাটি ফুঁড়ে সামনে খাঁড়া
কদাকার সেই লোকটা
বললো হেসে- কাম করবাইন
আগে ফালান ট্যাক্সটা!

৩.
সেদিন রানুর অফিস ছিলো
তোমার ছিলো ছুটি
একলা ঘরে আমরা দু’জন
বাঁধছি নতুন জুটি
কলেজ পড়া তাগড়া মেয়ে
বয়স খুবই অল্প
বন্ধ ঘরে প্রেমাবেগে
কত্তো রসের গল্প
হঠাৎ করে গেটে টোকা
রানু আমার বাড়ি
সেই থেকে যে রানুর প্রেমে
হলো ছাড়াছাড়ি! 

২২.০৮.২০০৮

Thursday, August 9, 2012

বন্ধু আছো তুমি

বন্ধু ছিলে তুমি স্বর্ণালী শৈশবে
বন্ধু ছিলে তুমি কৈশোরে অনুভবে
বন্ধু ছিলে তুমি দুরন্ত যৌবনে
অবিরাম ছুটে চলা জীবনের প্রয়োজনে
বন্ধু আছো তুমি প্রৌঢ়ের এই ক্ষণে।।

ধুলোয় মাখামাখি ন্যাংটো পুটো
স্মৃতিগুলো অমলিন আজও অক্ষত
নদীজলে ঝাঁপাঝাঁপি খালবিলে ডুব
কানামাছি ভোঁ ভোঁ লুকোচুরি চুপ
বন্ধু আছো তুমি ফেলে আসা দিন সনে।।

বৃষ্টির চোখে চোখ আলতো ছোঁয়া
ভাবনাতে দুজনার কল্পধোঁয়া
উদ্দাম ঝড়ো হাওয়া টুপটাপ জল
ঝরে পড়ে মনবনে ধারা অবিরল
বন্ধু আছো তুমি ভালোলাগা অনুরণে।।

শেখ জলিল        ০২.০৮.২০১২

Wednesday, August 1, 2012

দোলে অঙ্গ দোলে রে

দোলে অঙ্গ দোলে রে
আড়-বাতাসে দোলে
ঝোলে ঝুমকা ঝোলে রে
কানের লতায় ঝোলে
সুরের তালে নাচ-বিহঙ্গী
নাচে খেমটা বোলে।।

গায়ে দেখো কাঞ্চা সোনা
ঝরিয়া পড়ে
রূপের ছটায় রূপবতী
পাগলও করে
আমার প্রাণে সুরের নেশা
দোলে মাতন দোলে।।

চোখে দেখো হরিণ কালো
কাজলও মায়া
জোস্না হাসি চাঁদ-বদনে
ফেলেছে ছায়া
আমার মনে চন্দ্রগ্রহণ
তোলে কাঁপন তোলে।।

শেখ জলিল     ৩১.০৭.২০১২

Saturday, July 28, 2012

এডমন্টনে ঝরছে বাদল

এডমন্টনে ঝরছে বাদল
তুখোড় ধারার বৃষ্টি
মনের পাখি খুঁজছে সতেজ
কদম ফুলের দৃষ্টি।।

মেঘবতী মেঘের কন্যা
কার টানেতে ছুটছে
বজ্র-আলোয় রূপের ঝলক
স্মৃতির বারুদ ফুটছে
বুক-হৃদয়ে প্রেমবিদ্যুৎ
বাড়ছে অনাসৃষ্টি।।

ভাসছে স্মৃতি দূর অতীতে
যখন ছিলে কাছে
আকাশ-পাখি যুগলবন্দী
হিজল তমাল পাশে
বুনোফুলে বাঁধা খোঁপার
দস্যি মেয়ে মিষ্টি।।

এই প্রবাসে কদমও নেই
হিজলও নেই ধারে
বৃষ্টি এলেই দিচ্ছে উঁকি
ভাবনা বারে বারে
সুখের ছবি চোখের মাঝে
কাব্য-কথা-কৃষ্টি।।

এখনও কি ভাবনা জাগে
তেমনি নিবিড় ছোঁয়া
মন আকাশে রংধনু রং
ইচ্ছে বৃষ্টি ধোয়া
পড়লে চোখে দুচোখ আবার
ফেরাবে কি দৃষ্টি।।

শেখ জলিল   ২৮.০৭.২০১২

Sunday, July 22, 2012

শুধু তোমারই আশায়

শুধু তোমারই আশায়
দূর বনে নীলিমায় ডুবে যাবে চাঁদ
আকাশের তারাগুলো একে একে পড়বে খসে
আঁধারে হারিয়ে যাবে স্বপ্নীল পৃথিবী
তবুও হবে না শেষ তোমারই প্রতীক্ষা
ঘুমহীন চোখে এই রাতের বাসর।।

কবে যে করেছে চলা শুরু হৃদয়ের নদী
ঝিরিঝিরি ঝরনাধারা অন্তরে অবিরল
মনবনে ফুটেছে গোলাপ-চম্পা-বেলী
হাসনাহেনার ঘ্রাণে মাতাল ভ্রমরকূল
উড়ে উড়ে চলে গেছে তোমারই আকাশে
মানেনি বাধার ওই মেঘের চাদর।।

হয়তো তোমাকে পাবো খুঁজে বিরহের শেষে
নয়তো কখনো নয় যাপিত জীবনে আর
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাবে যে দু’চোখ আঁধারে মুদে
অনন্ত আশার টানে হৃদয় গভীরে প্রাণ
ছুটে যাবে কোনো এক অজানা গোপনে
ধুলিঝড়ে ঢেকে এই বুকের পাথর।।

কথা: শেখ জলিল

Friday, July 20, 2012

চাঁদের মেয়ে

চাঁদমুখ বরণ চাঁদের মেয়ে
পরেছো চাঁদের চুড়ি
আমার পৃথিবী আঁধারেতে ভাসে
যেন অমানিশাপুরী।
কেমনে দেবো অতলান্তিক পাড়ি
উথাল পাথাল সব ঢেউয়ের সারি
জ্যোৎস্নার আলোয় পথ খুঁজে দেবে
নেই সে উত্তরসূরী!।

দীঘল জ্যোৎস্নায় ভালোই ছিলাম
পূর্ণিমাতে নাও ভাসিয়েছিলাম
শুক্লপক্ষ শেষ হ'য়ে যাবে
বলেনিতো ঘুমপরী
কৃষ্ণপক্ষে হারিয়ে যায় ঐ
যেন চাঁদের অপ্সরী!।

কেমনে পাবো যে ঠিকানা তোমার
দু'চোখে আঁধার নূড়ি
চাঁদমুখ বরণ চাঁদের মেয়ে
সরাও চাঁদের বুড়ি।
সামনে বিশাল সব বাধার পাহাড়
সমুদ্র নিক্ না  আড়ি
চাঁদ সওদাগর তুলেছে এই পাল
দেবেই সে পথ পাড়ি!।

কথা: শেখ জলিল

Tuesday, July 17, 2012

ঘোলের স্বাদে মেটে নারে

ঘোলের স্বাদে মেটে নারে
খাঁটি দুধের আশ
বাঁশবাগানে ফোটে না ফুল
বছর-বারো মাস
আমি কেমন করে মিটাই জ্বালা
প্রেমের হা-হুতাশ।।

কানায় যেমন দেখে নারে
রূপের ছবি রং
বেঘোর মাতাল বোঝে নারে
নাচের মুদ্রা ঢং
ও হায় নিঠুর কালা শোনে নাতো
বুকের দীর্ঘশ্বাস।।

বয়স কালে থাকে নারে
মাথা কালো চুল
চৈত্র মাসে ভরে নারে
শুকনা নদীর কূল
ও হায় চাড়াল-সাধু করে নাতো
এক ঘরেতে বাস।।

শেখ জলিল         ১৭.০৭.২০১২