Friday, July 4, 2014

আমি ময়না টিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে

আমি ময়না টিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে
খাঁচায় পুষি কাক
এক দুর্জনেরে ভালোবেসে
জীবনটা বরবাদ।।

আমার গলায় বেঁধা মাছের কাঁটা
ধরি বিড়ালেরই পায়
মাথায় করে এনে সে যে
দুপায়ে মাড়ায়
তাহার মরা গাঙে কুমির ভরা
প্রেমের মৃত্যুফাঁদ।।

আমার মঙ্গলচণ্ডী পায়না পূজা
সুবচনী হাত বাড়ায়
নাক কাটাবার গোঁসাই সে যে
নাইকো পেট পূজায়
আমার কাঁথাও ভেজে কম্বল ভেজে
ভাঙা ঘরের ছাদ ।।

ও হায় উল্টো চোরা মশানে গায়
উৎপাত ধন চিৎপাতে যায়
জলিল বলে উঁচু হলে
ভাঙ্গে বৈশাখী বায়
তাহার উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে
দুঃখ-অবসাদ।।

শেখ জলিল        ২৭.০৫.২০১৪

Tuesday, June 24, 2014

এখানে হঠাৎ করে বৃষ্টি এলে

এখানে হঠাৎ করে বৃষ্টি এলে অঝোর ধারার
সহসাই বাঁধ ভেঙে যায় হৃদয় আমার
তুমি কি বৃষ্টি দেখো বৃষ্টি ধরো হাতের মুঠায়
ঝড়বাতাসে ঝাঁপটা এলে চিলেকোঠায়?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি সটান ভিজি
দূর জানালার মুখটি চেনা আজও খুঁজি
তুমি সেই কেমন আছো
বলো, তুমি কেমন আছো?।

এখানে ফাগুন এলে ফুলবাগানে গুনগুনিয়ে
সারাদিন ভোমরারা যায় গান শুনিয়ে
তুমি কি তেমনি সাধো তেমনি বাঁধো নতুন সুরে
তানপুরাটায় হাত বুলিয়ে কণ্ঠ জুড়ে?
দখিনায় কান পেতে রই এখন আমি
নিশি পাওয়া গানটি শুনি দিবসযামী
তুমি আজ কেমনে বাঁচো
বলো, তুমি কেমনে বাঁচো?।

এখানে শরৎ এলে শিউলি ফুলে ভোরবেলাতে
ঝরাফুলে মালা গাঁথি এই হাতেতে
তুমি কি তেমনি আসো গাছের তলায় চুপিসারে
ঠাকুরবাড়ির পেছনটাতে পুকুর ধারে?
এখনও বাতাসে ফুল ঝরা শুনি
তোমায় দেখার অপেক্ষাতে স্বপ্ন বুনি
তুমি কি আমায় যাচো
বলো, তুমি আমায় যাচো?।

শেখ জলিল                   ০৩.০৬.২০১৪

Sunday, June 8, 2014

মামা আমার গল্পে মারেন দই

মামা আমার গল্পে মারেন দই
পাতার বিড়ি ফুঁকে বলেন-
আমার স্মোক পাইপটা কই?।

মামার গাজনের নেই ঠিক-ঠিকানা
ডাক দিয়ে কন ঢাক বাজা না
খিড়কি দিয়ে হাতি গলে
সদর মানানসই।।

মামার গায়ে ওড়ে পাটের খড়ি
কলপ দেওয়া গোঁফ ও দাড়ি
গাছের কাঁঠাল দেখেই বলেন
তেলের শিশি কই?।

মামার মনের ভেতর দারুণ জোশ
ঘরের খেয়ে তাড়ান মোষ
ঘেঁটুপূজোয় নেচে গেয়ে
করেন হই-রই।।

শেখ জলিল  ০৬.০৬.২০১৪

Tuesday, May 27, 2014

আমি টকের জ্বালায় দেশ ছাড়িলাম

আমি টকের জ্বালায় দেশ ছাড়িলাম
এখন তেঁতুলতলায় বাস
জলের রেখা খলের পিরীত
হলো সর্বনাশ।।

আমার জন, জামাই আর ভাগনা মিলে
আঘাত দিলো হৃদয় দিলে
না জিগালো সোদর ভাইয়ে
করি চণ্ডালে বিশ্বাস।।

আমার মনের ইঁদুর গর্ত খোঁড়ে
সাপ এসে তা দখল করে
ইল্লী দিয়ে দিল্লী যাওয়া
ও হায় যায় না মনের আশ।।

আমার ধান নেই তবু বানাই চিঁড়ে
শিরোনাস্তি শিরঃপীড়ে
জলিল বলে নিদানকালে
শুধু বাড়ছে বুকের শ্বাস।।

শেখ জলিল  ১৫.০৫.২০১৪

Tuesday, April 29, 2014

আমার নাই নাই নাই রে

নাই নাই নাই রে
এমনও বসন্ত দিনে
বন্ধু কাছে নাই
মনবাগানে ফুটলো যে ফুল
প্রাণ ভোমরা কোথায় পাই।।

বাড়ির পাশে ফুলবাগানে
বইছে দখিন হাওয়া
ঘরের বাহির হইয়া তারেও
হয় না কাছে পাওয়া
আমায় ছেড়ে রয় যে দূরে
কার ঘরে সে নিলো ঠাঁই।।

ঘরে আমার বিষম জ্বালা
কোথায় বলো যাবো
পাল খাটাইয়া নাও ভাসানোর
মাঝি কী আর পাবো
ভরা গাঙে উঠলে জোয়ার
পারের সঙ্গী কেমনে পাই।।

ফাগুন আইলো ফাগুন গেলো
রইলো অধর পাওয়া
সুখের ভিটায় রঙের মেলায়
হইলো না আর যাওয়া
জলিল বলে দূর আকাশে
মিছেই ভুল ফানুস উড়াই।

শেখ জলিল  ১৮.০৪.২০১৪

Friday, March 28, 2014

এই আমার আর হয় না পাওয়া

এই আমার আর হয় না পাওয়া
গাঁয়ের শ্যামল সুখের ছোঁয়া
শৈল্লা বিলে পানশী বাওয়া
লাগিয়ে হাওয়া মাতাল।
সোঁদা মাটির সুবাস নিয়ে
বনের সবুজ পথ পেরিয়ে
দিগন্তের ঐ সুনীল ছুঁয়ে
মনটা হতো উথাল-
আমার হারিয়েছে সেই কাল।।

মায়ের আমার গড়তো শীতে
রঙের নকশী কাঁথা
সেই কাঁথাতে জড়িয়ে আমায়
বলতো গল্প-গাথা।
এই আমার আর হয় না পরা
তেমনি উষ্ণ চাদর
সময় স্রোতে হারিয়ে গেছে
মায়ের স্নেহের আদর
সকাল বিকাল দু'কাল গেছে
জীবন নদীর কূলের কাছে
সন্ধ্যা আমায় ডাকছে পিছে
প্রৌঢ়ে ধরে হাল-
আমার হারিয়েছে সেই কাল।।

মুড়ি-মুড়কি কবরী কলা
গামছা পাতা দধি
উদর পুরে খেতাম কতো
গ্রাম ছাড়া অবধি।
এই আমার আর হয় না খাওয়া
দুধের তালের পিঠা
আমের রসে খই ভিজিয়ে
মাখিয়ে গুড়ের মিঠা
কৈশোর আমার নদীর ঘাটে
নাটাই ঘুড়ির পিছন ছোটে
সুখের স্মৃতির কুসুম ফোটে
পেরিয়ে ক্ষেতের আল-
আমার হারিয়েছে সেই কাল।।

শেখ জলিল     ২১.০৩.২০১৪

Tuesday, February 18, 2014

কান্দিস কেনে মন

কান্দিস কেনে মন
কান্দিলে কি মিলবে দেখা
অদৃশ্য সুজন
তুই মিছেই পাগল মন।।

খুঁজিস তারে সন্ধ্যা প্রাতে
যে জন থাকে অধরাতে
পাহাড় জঙ্গল ঘুইরা বেড়াস
সদাই সর্বক্ষণ।।

ভাবিস তারে মনের মাঝে
যে জন থাকে শূন্য সাজে
হৃদয় জুড়ে রক্তক্ষরণ
করতে তারে ধারণ।।

সাধ্য কী আর এই ধরাতে
শেখ জলিল-এ পাইবে হাতে
অধর ধরা ফুলের কলি
ছুঁইতে যারে বারণ।।

শেখ জলিল  ১২.০২.২০১৪