Monday, May 28, 2012

তুমি কি জানো এই স্বাধীনতা

তুমি কি জানো এই স্বাধীনতা কতো রক্ত দিয়ে কেনা
তুমি কি মানো এই স্বাধীনতা নিয়েছে কেড়ে মুখ চেনা
হারিয়েছি পিতা, হারিয়েছি মাতা, শহীদ হয়েছে ভাই
দিয়েছে জীবন দেশের তরে আজও তাদের ভুলি নাই।।

করেছে লুণ্ঠন পাকহানাদারে পুড়েছে সোনার দেশ
হারিয়ে সম্ভ্রম বোনেরা নিয়েছে বীরাঙ্গনার বেশ
করেছে যুদ্ধ মুক্তিসেনারা পরাজয় মানে নাই
কতো সাহসী যুদ্ধগাথা রয়ে গেছে অজানাই।।

ভুলে ভেদাভেদ হাতে রাখো হাত যাচ্ছে কেটে দিন
গড়তে হবে স্বদেশভূমি হিংসাকে করে বিলীন
স্বাধীনতার স্বপ্নক্ষুধা আজও বুকে মরে নাই
একাত্তরের সেই জনতা চলো সব ঘুরে দাঁড়াই।।

শেখ জলিল            ২৮.০৫.২০১২

Sunday, May 27, 2012

ও বন্ধু

ও বন্ধু, মনে রেখো আমায়
একদিন আমিও ছিলাম
ভরা কোনো আড্ডায়, ব্যস্ত কাজে
আনন্দ-অবসরে সবার মাঝে
তোমাদের এই প্রিয় চেনা ঠিকানায়।।

আমিও করেছি ভাগ দুঃখ-সুখ
সবার মুখে চেয়ে হয়ে উন্মুখ
বেসেছে ভালো কেউ, এসেছে বিরহ ঢেউ
ভেঙেছে বেদনাভার এই পোড়া বুক
তবুও ছিলাম আমি বন্ধু তোমার
জীবনের প্রয়োজনে প্রাণের মেলায়।।

এঁকেছি কতোনা চোখে স্বপ্ন-দিন
গানের কথা জুড়ে বাজিয়েছি বীণ
বেঁধেছি প্রেমে ঘর, দেখেছি সহসা ঝড়
হারিয়ে গিয়েছে সুখ কল্প-রঙিন
তবুও গেয়েছি গান আসর জুড়ে
তোমাদের বিনোদনে সুরের ধারায়।।

শেখ জলিল        ২৫.০৫.২০১২

Tuesday, May 22, 2012

তুমি শুনতে কি পাও

তুমি শুনতে কি পাও-
বাতাসের ক্রন্দনে হৃদয় কাঁপন?
শুনতে কি পাও-
ঝরণার উদ্দামে সুখের যাপন?
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি তাই
চিরদিন কাছে পেতে চাই।।

আমি নদী হয়ে চলছি পথে
দূরে মোহনায়
উজাড় করে দিতে ভালোবাসা
কানায় কানায়
সাগর সঙ্গমে পাবো তোমার দেখা
একদিন জানি সহসাই।।

আমি ঝড় হয়ে বইছি ছুটে
মেঘের ডানায়
বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাবো একদিন
তোমার ডাঙায়
সুখের বর্ষণে হবে পূর্ণ আশা
হৃদয়ের সব চাওয়াটাই।।


শেখ জলিল      ২২.০৫.২০১২

Tuesday, May 8, 2012

বাবা তোমাকে মনে পড়ে

বাবা তোমাকে মনে পড়ে-
কতো ক্লান্ত প্রহরে- কাজের অবসরে
ছোট্টবেলার স্মৃতিরা যখন
মনে এসে ভর করে।।

ভোরবেলা ইশকুলে যাওয়া
অথবা দুপুরে একসাথে খাওয়া
গল্পকথার সন্ধ্যারা এসে
এখনও হাত ধরে।।

বটতলা সেই চৈতী মেলা
পাড়াটা চড়িয়ে ডাংগুলি, বৈচি খেলা
দুষ্টুমিতে তোমারই শাসন
এখনও প্রাণ ডরে।।

শেখ জলিল     ০৮.০৫.২০১২

Friday, April 20, 2012

এই নিঃসঙ্গ প্রবাসে

এই নিঃসঙ্গ প্রবাসে কতো দুঃসহ দিন
জীবনের বসন্ত হলো বিলীন
হলো না দেখা শুধু তোমার সাথে
স্মৃতিগুলো ওড়ে নীল ঘাস ফড়িং।।

হলো না যাওয়া আর স্বর্ণালী দিনে
বাজিয়ে সুখের গান হৃদয়ের বীণে
ছিঁড়ে গেছে মালা সেই বিনিসূতার
করে দিয়ে সব কিছু প্রেমচিহ্নহীন।।

দিলে না তোমার আর কোনো ঠিকানা
রইলে অপর হয়ে দূরে অজানা
খুঁজে ফিরি আজও সেই অনন্ত সুখ
দিয়েছিলে তুমি এসে বাধাবন্ধহীন।।

শেখ জলিল         ২০.০৪.২০১২

Wednesday, April 18, 2012

দিনে দিনে পৃথিবীটা যাচ্ছে বদলে

দিনে দিনে পৃথিবীটা যাচ্ছে বদলে
বদলে যাচ্ছে মানুষ
তবুও মানুষ ঐ আকাশে ওড়ায়
অধরা স্বপ্নের ফানুস
ভুলে যাবে একদিন তুমিও জানি
আমার এ ভাবনা তবু তোমাতে বেহুঁশ।।

একদিন ঘূণপোকা কাটবে হৃদয়
ভালোলাগা স্মৃতিগুলো হবে বিষময়
আসবে ঝড়, ভাঙবে ঘর
ফাঁপানো প্রেমের বেলুন দমকা হাওয়ায়
ফেটে যাবে ঠুস।।

একদিন যন্ত্রণা ডাকবে বিষাদ
অনাবিল সুখগুলো হবে অবসাদ
আসবে ক্ষণ, ভাঙবে মন
লুকানো বিরহ আগুন হৃদয় কোণায়
জ্বলে যাবে ফুঁস।।

শেখ জলিল          ২৯.০৩.২০১২

Wednesday, February 2, 2011

ঘটনা পরম্পরা

'যা কিছু করলে মহান
ফিরে পাবেই প্রতিদান'

স্কটল্যান্ডের একজন দরিদ্র কৃষক, নাম তার ফ্লেমিং। সে তার সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য খুব খাটছিলো। একদিন যখন সে কাজে ব্যস্ত নিকটস্থ ডোবা থেকে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পেলো। সে তার হাতের কাজ ফেলে দৌড়ে গেলো ডোবার দিকে। দেখলো- একটি ছোট্ট বালক চোরা কাদায় কোমড় অবধি ডুবে গেছে। বাঁচার  জন্য সে খুব চেষ্টা করছে।  ফ্লেমিং তাড়াতাড়ি বালকটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করলো। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে সেদিন বেঁচে গেলো সে।

পরদিন ফ্লেমিং-এর বাড়ির সামনে এক দামি গাড়ি এসে থামল। বর্ণাঢ্য পোশাক পরা এক বিত্তবান লোক গাড়ি থেকে নামলেন। স্কটিশ কৃষককে বললেন- যে বালকের আপনি প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন আমি তার বাবা। আমার ছেলেকে জীবনদানের জন্য আপনাকে পুরস্কার দিতে চাই।
কৃষক তাঁর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে হাত নেড়ে বললেন- ধন্যবাদ, যা করেছি তার বিনিময়ে আমি কিছু গ্রহণ করতে পারি না।

এই সময় কৃষকের ছেলে ঘরের ভিতর থেকে বের হয়ে এলো। ধনাঢ্য ব্যক্তি বললেন- আপনার ছেলে?
-হ্যাঁ, স্কটিশ কৃষক গর্বভরে বললেন।
- আপনার নিকট আমার একটি আবদার আছে। আপনার ছেলেকে আমি আমি পড়াশুনা করাতে চাই। আমার ছেলে যেমন সুযোগ পাচ্ছে ও তেমনই পাবে। যদি এ ছেলে তার বাবার মতো হয় ভবিষ্যতে সে যোগ্য মানুষ হবেই। তখন আমরা দুজনে গর্ব করতে পারবো।
অবশেষে কৃষক তাঁর প্রস্তাব মেনে নিলো।

কৃষক ফ্লেমিং-এর ছেলে সবচেয়ে ভালো স্কুলে লেখাপড়া করতে থাকলো। এরপর সে সেন্ট মেরি'স মেডিক্যাল স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট হলো। এক সময় সে পেনিসিলিন আবিষ্কার করলো। পৃথিবী বিখ্যাত এই ছেলের নাম আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।

ক'বছর পরের ঘটনা। সেই ধনাঢ্য ব্যক্তির ছেলে (যার প্রাণ বাঁচিয়েছিলো কৃষক ফ্লেমিং চোরা কাদা থেকে) একদিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলো। কিন্তু এবারে কৃষকপুত্রের পেনিসিলিন প্রাণ বাঁচালো তার।

গল্পের ধনাঢ্য ব্যক্তির নাম লর্ড রানডলফ চার্চিল। আর তাঁর ছেলের নাম উইনস্টোন চার্চিল।

(মূল লেখাটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত।  লেখকের নাম পাওয়া যায়নি।)

জানুয়ারি ৩১, ২০১১